অদ্ভুত ইউরোপ!

houses surrounded by mountains

ইউরোপের জার্মানিতে বিয়ের আগের দিন রাতে বর-কনের পরিবার ও বন্ধুরা তাদের ঘরের বাইরে কাচের জিনিস ছুড়ে ফেলেন। নতুন দম্পতিরা সেই ভাঙা কাচের টুকরাগুলো ঝাড়ু দিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন। তাদের বিশ্বাস, এতে নবদম্পতির দাম্পত্য মধুর হয়।

ইউরোপ মহাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া এবং রোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটির আয়তন ০.২ বর্গ মাইল এবং সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ার আয়তন ৬,৬০২,০০০ বর্গ মাইল।

ইউরোপে অনেক ছোট-বড় পর্বতমালা রয়েছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পর্বতমালা মাইন্ট এলবারাস, জনপ্রিয় পর্বত আল্পস, দ্য কার্পাথাইন্স, দ্য কসাস মাউন্টেইন এবং দ্য পিরেনাস পর্বতমালা হাইকিং ও স্কিয়িং-এর জন্য বিখ্যাত।

ইউরোপের গ্রেট ব্রিটেনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সংরক্ষিত প্রাচীন নিদর্শনগুলোর ১০০ ভাগের মাত্র এক ভাগ প্রদর্শিত হয়।

ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু শৌচাগার রয়েছে মাউন্ট ব্লাঙ্কে। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা শৌচাগার।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ইউরোপের বসনিয়ার পেরুকিকা রেইন ফরেস্টটি ইউরোপ মহাদেশের সর্বশেষ রেইন ফরেস্ট।

বুলগেরিয়া হলো ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন দেশ, যা খ্রিস্টপূর্ব ৬৮১ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে আজও অপরিবর্তিত।

আধুনিক রাশিয়ায় এখনো প্রায় ১৩ হাজারেও বেশি বসতিহীন গ্রাম রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে রাত ১০টার পর টয়লেটের ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা যাবে না। কোনো কারণে যদি ফ্ল্যাশ করেও বসেন তাহলে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।

স্পেনের আইন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আরেক জোড়া চশমা আপনাকে সঙ্গে রাখতে হবে। দুই জোড়া চশমা ছাড়া গাড়িতে উঠলে জরিমানা গুনতে হবে।

ইতালির পিসা টাওয়ারটি ঘণ্টা বাজানোর জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। টাওয়ারটি তৈরিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। কিন্তু এখনো টাওয়ারটি একদিকে ঝুঁকে আছে।

ইউরোপের ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। যার দৈর্ঘ্য ২৭০০০ মাইল।

ফিনল্যান্ড একমাত্র দেশ যেখানে প্রতি বছর বৃদ্ধ স্ত্রীকে কাঁধে চড়ানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং এ জন্য জয়ী দম্পতিতে পুরস্কৃৃত করা হয়।

পিঁপড়াদের উপনিবেশ বা কলোনি, অবাক হওয়ার মতোই কথা! উত্তর ইতালি ও স্পেনের পাশে প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে গঠিত আর্জেন্টাইন পিঁপড়াদের কলোনি।

স্পেনের শহরে প্রতি বছর আগস্টে ঐতিহ্যবাহী লা টমাটিনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে ১ লাখ ৫০ হাজার টমেটো ছোড়া হয়।

Llanfairpwllgwyngyllgogerychwyrndrobwllllantysiliogogogoch ওয়েলসের অ্যাঙ্গেল্রির এই নামের গ্রামটি হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় গ্রাম্যদ্বীপ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাম যাতে ৫৮টি অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।

 

Photo: Internet/Google

 

 

দুই মহাদেশের শহর

প্রাচীনকাল থেকেই তুরস্কের শহর ইস্তাম্বুল দুই মহাদেশের শহর হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু শহরই নয়, বরং বলা চলে একটি কিংবদন্তি। এশিয়া ও ইউরোপকে একত্রে বলা হয় ইউরেশিয়া, যার বিভাজন রেখা হলো বসফোরাস, আর এই বরফোরাস প্রণালির অবস্থান প্রাচীন এই শহরে। শহরটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি শহর। ইস্তাম্বুল ইউনেস্কোর তালিকায় ইউরোপের রাজধানী শহরের মর্যাদা পেয়েছিল ২০১০ সালে। এটাই একমাত্র শহর যার ভৌগোলিক অবস্থান দুই মহাদেশে। পরিকল্পিত শহরটি দেখতে স্বপ্নের জগতের মতো। ইস্তাম্বুলের ইতিহাসে অসংখ্য সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ঘটেছিল। এক সময় এই ইস্তাম্বুল শহরই ছিল তুরস্কের রাজধানী। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুরা শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে রাজধানী স্থানান্তরিত করা হয়। তাই বলে প্রাচীন রাজধানী ইস্তাম্বুলের গুরুত্ব কোনো অংশে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। এক সময় ইস্তাম্বুলই ছিল পৃথিবী শাসনকারী বাইজানটাইন ও পরবর্তীতে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজধানী। একবার বিখ্যাত নেপোলিয়ন বোনাপার্তি বলেন, ‘গোটা পৃথিবীকে যদি একটি রাজ্য ভাবা হয়, ইস্তাম্বুল হবে তার রাজধানী। ’

 

Photo: Internet/Google

 

রঙিন রোমানীয় সমাধি

সমাধি বা কবরস্থান মন খারাপের স্থান। কিন্তু সেটি যে মজাদার এবং বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে তা উত্তর রোমানিয়ার এই কবরস্থান না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। সাপান্তা, উত্তর রোমানিয়ার কবরস্থান, যা শুভ সমাধির জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এই কবরস্থানটিকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট হিসেবে সবাই চেনে। সাপান্তা এমনই এক কবরস্থান যা গোটা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসু মানুষকে আকৃষ্ট করে। হয়তো ভাবছেন, এটা কী করে সম্ভব? সাপান্তার সমাধির পাথরগুলো বিরল নকশা করা হয়। প্রতিটি কবরের জন্য ওক গাছের কাঠ থেকে একটি বড় ক্রস স্ক্যাল্পাচারড তৈরি সমাধির পাথরে দাঁড় রাখা হয়। আর সেই কাঠের ওপরে করা হয় প্রাণবন্ত রঙের নকশা। রং হিসেবে দেওয়া হয় লাল, নীল, সবুজ, হলুদের ছোঁয়া। অনেকটা মজার ছলে হাস্যরসে স্ক্যাল্পাচারডে করা নকশায় তুলে ধরা হয় মৃত ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী। ১৯৩৫ সালে রোমানিয়ান হস্তশিল্পী লন স্টান পাত্রাস মানুষের মাঝে এ ধারণা দেন। ডাকিয়ানদের প্রাচীনতম ঐতিহ্য এটি। ডাকিয়ানরা রোমানিয়ানদের পূর্বপুরুষ। মৃত ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অমরত্বে এমনকি মৃত্যুতে শোক না করে হাসিমুখে থাকার জন্য এমনটি করে।

 

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
Sharing is Caring:

2 Comments

  1. Kulsum says:

    In a word,it was amazing 🖤

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *